প্রযুক্তি ডেস্ক
সনাতন পাত্র
মহাকাশ বিজ্ঞানে আগ্রহী ও সাধারণ মানুষের জন্য ২০২৬ সালের ৩ মার্চ একটি স্মরণীয় দিন হতে যাচ্ছে। ওই দিন আকাশে দেখা যাবে বছরের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এই বিশেষ গ্রহণের সময় চাঁদ অদ্ভুত এক তামাটে বা লালচে রং ধারণ করবে, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তিম চাঁদ বলা হয়। ২০২৬ সালের এটিই প্রথম ও শেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। এরপর এমন মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার জন্য মহাকাশ প্রেমীদের ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রতীক্ষা করতে হবে।
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের বৈজ্ঞানিক কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে এবং সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে পারে না, তখনই চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার অংশে গিয়ে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোর নীল রঙের ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয় এবং লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের পৃষ্ঠের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে আগুনের মতো লাল বা তামাটে দেখায়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ লাল হওয়ার পেছনে যে বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে, রক্তিম চাঁদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই প্রক্রিয়া কাজ করে।
সূর্যগ্রহণ দেখার সময় চোখের জন্য বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন থাকলেও চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ চশমার প্রয়োজন হয় না। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে যাদের কাছে সাধারণ বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ আছে, তারা চাঁদের পৃষ্ঠের তামাটে রং এবং ছায়ার পরিবর্তনগুলো আরও নিখুঁতভাবে উপভোগ করতে পারবেন। বিশেষ করে শহর থেকে দূরে যেখানে কৃত্রিম আলো বা আলোক দূষণ কম, সেখান থেকে ব্লাড মুনের আসল রূপটি ফুটে উঠবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, গ্রহণের সময় স্থির হয়ে ছবি তোলার জন্য ট্রাইপড ব্যবহার করলে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
প্রকৃতি ও মহাকাশের এই রহস্যময় খেলা আমাদের প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ কেবল দেখার জন্য সুন্দর নয়, এটি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চাঁদের এই রঙ পরিবর্তন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অবস্থা সম্পর্কেও বিজ্ঞানীদের ধারণা দেয়। তাই ৩ মার্চের এই বিরল সুযোগ হাতছাড়া করতে না চাইলে সময়মতো আকাশের দিকে নজর রাখা জরুরি। তারিখ এবং সঠিক সময় মাথায় রেখে আপনিও হতে পারেন এই ঐতিহাসিক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী।
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের বৈজ্ঞানিক কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে এবং সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে পারে না, তখনই চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার অংশে গিয়ে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোর নীল রঙের ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয় এবং লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের পৃষ্ঠের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে আগুনের মতো লাল বা তামাটে দেখায়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ লাল হওয়ার পেছনে যে বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে, রক্তিম চাঁদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই প্রক্রিয়া কাজ করে।
চন্দ্রগ্রহণ দেখার সময় ও দৃশ্যমানতা
২০২৬ সালের এই চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের একটি বিশাল অংশ থেকে প্রত্যক্ষ করা যাবে। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে এই বিরল দৃশ্য দেখা যাবে। এশিয়ার পূর্ব অংশ এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ৩ মার্চ সন্ধ্যায় চাঁদ যখন উদিত হবে, তখন লালচে আভা স্পষ্ট হবে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় এটি ভোরবেলা দৃশ্যমান থাকবে। গ্রহণের মূল পর্যায়টি বা পূর্ণগ্রাস স্থায়িত্ব হবে প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিনিট। নাসার হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে এই অভাবনীয় দৃশ্য খালি চোখেই দেখা সম্ভব হবে।সূর্যগ্রহণ দেখার সময় চোখের জন্য বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন থাকলেও চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ চশমার প্রয়োজন হয় না। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে যাদের কাছে সাধারণ বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ আছে, তারা চাঁদের পৃষ্ঠের তামাটে রং এবং ছায়ার পরিবর্তনগুলো আরও নিখুঁতভাবে উপভোগ করতে পারবেন। বিশেষ করে শহর থেকে দূরে যেখানে কৃত্রিম আলো বা আলোক দূষণ কম, সেখান থেকে ব্লাড মুনের আসল রূপটি ফুটে উঠবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, গ্রহণের সময় স্থির হয়ে ছবি তোলার জন্য ট্রাইপড ব্যবহার করলে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
চন্দ্রগ্রহণের তিনটি প্রধান ধাপ
একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ মূলত তিনটি প্রধান পর্যায়ের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রথমত, ‘পেনামব্রাল’ পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়ার (উপচ্ছায়া) মধ্যে প্রবেশ করে, যার ফলে চাঁদের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে। দ্বিতীয় পর্যায়ে শুরু হয় আংশিক গ্রহণ, যখন চাঁদের কিছু অংশ পৃথিবীর মূল অন্ধকার ছায়ার (প্রচ্ছায়া) মধ্যে ঢুকে পড়ে। সবশেষে আসে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ‘পূর্ণগ্রাস’ বা টোটালিটি। এই পর্যায়ে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ার আড়ালে চলে যায় এবং সূর্যের প্রতিসরিত আলোর কারণে লালচে বর্ণ ধারণ করে। ৩ মার্চের এই মহাজাগতিক ঘটনাটি দেখার জন্য ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।প্রকৃতি ও মহাকাশের এই রহস্যময় খেলা আমাদের প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ কেবল দেখার জন্য সুন্দর নয়, এটি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চাঁদের এই রঙ পরিবর্তন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অবস্থা সম্পর্কেও বিজ্ঞানীদের ধারণা দেয়। তাই ৩ মার্চের এই বিরল সুযোগ হাতছাড়া করতে না চাইলে সময়মতো আকাশের দিকে নজর রাখা জরুরি। তারিখ এবং সঠিক সময় মাথায় রেখে আপনিও হতে পারেন এই ঐতিহাসিক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী।
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০২ অপরাহ্ণ
...